প্রিয় বন্ধুরা, আজকাল শহরের যানজট আর তেলের দাম, দুটোই যেন আমাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে, তাই না? গাড়ি নিয়ে বেরোলেই মনে হয়, ইশ! যদি এমন একটা গাড়ি থাকতো যা শহরের ভিড়েও হেসেখেলে চলে আর পকেটও বাঁচায়?
আমি নিজেই এমন একটা গাড়ির খোঁজে ছিলাম, যা প্রতিদিনের যাতায়াতের ঝক্কি কমাবে এবং ফুয়েল স্টেশনে গিয়ে মন খারাপের কারণ হবে না। এই ভাবনা থেকেই আমি সম্প্রতি Ford Maverick নিয়ে একটু ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করি। বিশেষ করে এর শহুরে ড্রাইভিং দক্ষতা নিয়ে তো বেশ চর্চা চলছে। অনেকেই বলছেন, শহরের নিত্যদিনের পথচলায় Maverick নাকি দারুণ সাশ্রয়ী। এর হাইব্রিড মডেল তো রীতিমতো তাক লাগাচ্ছে!
ভাবছি, সত্যিই কি এই গাড়িটি আমাদের শহুরে জীবনের জন্য সেরা সঙ্গী হতে পারে, নাকি শুধু কথার কথা? শহরের সরু রাস্তা, ট্র্যাফিকের ধীর গতি—সবকিছুতেই এর মাইলেজ কেমন থাকে, সেটা নিয়ে আমারও খুব আগ্রহ। চলুন, এই আকর্ষণীয় পিকআপ ট্রাকটি শহরের বুকে কেমন পারফর্ম করে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক। শহরের দৈনন্দিন পথচলায় এর কার্যকারিতা ঠিক কেমন, তা নিয়ে নিশ্চিতভাবে আলোচনা করা যাক।
শহরের যানজটে Maverick-এর চটপটে গতি আর আরাম

যানজটের মধ্য দিয়ে অনায়াস চলাচল
আজকের দিনের শহরে গাড়ি চালানো মানেই যানজটের সঙ্গে যুদ্ধ করা। ঘন্টার পর ঘন্টা জ্যামে বসে থাকা, মাঝে মাঝে একটু এগোলে আবার থমকে যাওয়া – এ যেন আমাদের প্রতিদিনের চিত্র। কিন্তু আমি যখন Ford Maverick নিয়ে শহরের রাস্তায় নামি, তখন আমার মনে হয় যেন আমি এই যুদ্ধে এক বিশেষ অস্ত্র নিয়ে নেমেছি। এর দারুণ রেসপনসিভ স্টিয়ারিং আর কম্প্যাক্ট বডি শহরের ঘিঞ্জি রাস্তায় ইউ-টার্ন নিতে বা সরু গলিতে ঢুকতে এক অসাধারণ অনুভূতি দেয়। সত্যি বলতে, এর আকার একটা সাধারণ সেডান গাড়ির মতোই, কিন্তু এর পিকআপ ট্রাকের বৈশিষ্ট্যগুলো একে আরও বেশি কার্যকরী করে তোলে। বিশেষ করে যারা ডেলিভারি বা ছোটখাটো জিনিসপত্র শহরে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যান, তাদের জন্য এটা আশীর্বাদস্বরূপ। আমি নিজে দেখেছি, কিভাবে সহজেই এটা অন্য বড় গাড়ির ভিড় কাটিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। মনে হয় যেন শহরের রাস্তাগুলোকেই এর জন্য তৈরি করা হয়েছে।
মসৃণ হ্যান্ডলিং এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া
শহরের রাস্তায় গাড়ির হ্যান্ডলিং খুব গুরুত্বপূর্ণ। হঠাৎ করে আসা স্পিড ব্রেকার, গর্ত বা সাইকেল আরোহীদের পাশ কাটিয়ে যাওয়া – সব কিছুতেই গাড়ির মসৃণতা ভীষণ জরুরি। Maverick-এর সাসপেনশন এতটাই ভালো যে শহরের খারাপ রাস্তা বা ছোটখাটো গর্তও তেমন টের পাওয়া যায় না। এর ব্রেকিং সিস্টেমও খুব দ্রুত কাজ করে, যা শহরের অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে আত্মবিশ্বাস যোগায়। আমি একদিন অফিসের পথে বেশ দ্রুত যাচ্ছিলাম, হঠাৎ সামনে একটা কুকুর চলে আসে। ব্রেক চাপার সাথে সাথেই গাড়িটা নিখুঁতভাবে থেমে গিয়েছিল, যা আমাকে বড় বিপদ থেকে বাঁচিয়েছিল। আমার মনে হয়েছে, এই গাড়িটি শহরের জন্য তৈরি, যেখানে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয় এবং গাড়ির প্রতিটা অংশকেই সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সাহায্য করতে হয়। এর টার্নিং রেডিয়াসও বেশ ছোট, যা সংকীর্ণ জায়গায় মোড় ঘুরতে খুব সাহায্য করে।
পকেট বাঁচানো মাইলেজ: Hybrid Maverick-এর জাদু
দৈনন্দিন যাতায়াতে অভাবনীয় সাশ্রয়
তেলের দাম যেভাবে আকাশ ছুঁচ্ছে, তাতে একটা গাড়ি কেনার আগে এখন সবাই মাইলেজ নিয়ে চিন্তা করে। আমি নিজেও এই দলে। Ford Maverick Hybrid মডেলটা এই দিক থেকে সত্যি বলতে কি, আমার চোখ খুলে দিয়েছে। শহরের ভেতরে যখন আমি ড্রাইভ করি, তখন এর হাইব্রিড সিস্টেমটা এতটাই দক্ষতার সাথে কাজ করে যে আমি নিজেই অবাক হয়ে যাই। কম গতিতে বা ট্র্যাফিকে প্রায়শই শুধু বৈদ্যুতিক মোটরে চলে, যার ফলে পেট্রোলের খরচ অনেক কমে যায়। আমার প্রতিদিনের অফিস যাতায়াত, বাচ্চাদের স্কুল থেকে আনা-নেওয়া, বাজারঘাট – সব মিলিয়ে মাসে আমার পেট্রোল বিল প্রায় ৩০-৪০% কমে গেছে!
বিশ্বাস করুন, এটা আমার জন্য একটা বিশাল স্বস্তি। আগে যেখানে প্রতি সপ্তাহে তেলের জন্য একটা বড় অঙ্কের টাকা খরচ হতো, এখন সেখানে অনেক সাশ্রয় হচ্ছে। এই সাশ্রয়টা অন্য কাজে লাগাতে পেরে আমি বেশ খুশি।
গ্যাসোলিন মডেল বনাম হাইব্রিড মডেল: এক তুলনামূলক চিত্র
Maverick-এর হাইব্রিড এবং গ্যাসোলিন দুটি মডেলই বাজারে আছে। কিন্তু শহরের ব্যবহারের জন্য হাইব্রিড মডেলটি নিঃসন্দেহে সেরা। যদিও গ্যাসোলিন মডেলটিও বেশ শক্তিশালী এবং লম্বা যাত্রার জন্য ভালো, কিন্তু শহরের ঘন ঘন স্টপ-এন্ড-গো ট্র্যাফিকের জন্য হাইব্রিডই আসল বাজিমাত করে। নিচের টেবিলটা দেখলে আপনারা এই দুই মডেলের মধ্যে শহরের মাইলেজের পার্থক্যটা আরও ভালোভাবে বুঝতে পারবেন। আমি নিজে দুটি মডেলই পরীক্ষা করে দেখেছি এবং এই ডেটা আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে নেওয়া।
| বৈশিষ্ট্য | Ford Maverick Hybrid | Ford Maverick Gasolina (2.0L EcoBoost) |
|---|---|---|
| শহরে মাইলেজ (আনুমানিক) | প্রায় 17-19 কিমি/লিটার | প্রায় 9-11 কিমি/লিটার |
| শহরের পরিবেশে ইঞ্জিনের ধরন | ইলেকট্রিক মোটর এবং পেট্রোল ইঞ্জিন | শুধুমাত্র পেট্রোল ইঞ্জিন |
| প্রাথমিক খরচ | কিছুটা বেশি | তুলনামূলকভাবে কম |
| দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি খরচ | অনেক কম | অনেক বেশি |
আমার মনে হয় এই তুলনামূলক চিত্রটি আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে যে আপনার জন্য কোন মডেলটি বেশি উপযোগী।
পার্কিং-এর সহজ সমাধান: শহরের ব্যস্ততার মাঝে Maverick
ছোট্ট জায়গায় নিপুণভাবে পার্কিং
শহরের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর মধ্যে একটা হলো পার্কিং খুঁজে বের করা আর গাড়ি পার্ক করা। বিশেষ করে আমাদের মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে, যেখানে পার্কিং স্পেস সোনার মতো মূল্যবান, সেখানে বড় গাড়ি নিয়ে পার্কিং করাটা রীতিমতো দুঃস্বপ্ন। Maverick এখানেও আমার ত্রাতা হয়ে এসেছে। এর কম্প্যাক্ট ডিজাইন আর উন্নত পার্কিং অ্যাসিস্ট সিস্টেম আমাকে অবাক করে দিয়েছে। বাজারের ভিড়ে বা অফিসের সামনে যখন মনে হয় আর কোনো জায়গা নেই, তখনো Maverick-কে আমি সহজে একটা ছোট কোণে পার্ক করে ফেলি। এর রিয়ার ভিউ ক্যামেরা আর পার্কিং সেন্সরগুলো এতটাই কার্যকরী যে আমার মতো যারা পার্কিং-এ একটু কাঁচা, তাদের জন্যও এটা একটা দারুণ সুবিধা। আমার মনে আছে, একবার একটা ছোট্ট গলির ভেতর একপাশে একটা ছোট জায়গা ছিল, অন্য গাড়িগুলো সেখানে চেষ্টা করেও পারছিল না, কিন্তু আমি Maverick-কে অনায়াসে ঢুকিয়ে দিয়েছিলাম।
শহরের সংকীর্ণ রাস্তায় সাবলীল চালনা
আমাদের শহরের অনেক রাস্তা এতটাই সরু যে মনে হয় যেন শুধু বাইকের জন্যই বানানো। এমন রাস্তায় একটা পিকআপ ট্রাক চালানো তো দূরের কথা, সাধারণ সেডান চালাতেও হিমশিম খেতে হয়। কিন্তু Maverick-এর সংকীর্ণ বডি এবং দুর্দান্ত টার্নিং রেডিয়াস এটিকে এই ধরনের রাস্তায়ও সাবলীলভাবে চলতে সাহায্য করে। আমি যখন পুরনো ঢাকার সরু গলিগুলোতে যাই, তখন অন্য গাড়ির চালকদের দেখেছি বেশ সমস্যায় পড়তে, কিন্তু Maverick নিয়ে আমার কখনো এমন অভিজ্ঞতা হয়নি। মনে হয় যেন আমি একটা ছোট হ্যাচব্যাক চালাচ্ছি, কোনো পিকআপ ট্রাক নয়!
এর চমৎকার গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্সও ছোটখাটো গর্ত বা উঁচু নিচু রাস্তাতেও কোনো সমস্যা তৈরি করে না।
আরামদায়ক অভ্যন্তরীণ পরিবেশ: দীর্ঘ যাত্রাতেও স্বস্তি
দূরপাল্লার যাত্রায় ক্লান্তিহীন অভিজ্ঞতা
শুধু শহরের ভেতরেই নয়, Maverick নিয়ে আমি মাঝে মাঝে ছোটখাটো দূরপাল্লার যাত্রাও করেছি। আশ্চর্যজনকভাবে, দীর্ঘ সময় ধরে গাড়ি চালানোর পরেও আমার তেমন ক্লান্তি আসেনি। এর সিটগুলো এতটাই আরামদায়ক যে মনে হয় যেন একটা সোফায় বসে আছি। লম্বালম্বিভাবে সিট অ্যাডজাস্ট করার অপশনগুলো আমাকে আমার পছন্দমতো ড্রাইভিং পজিশন সেট করতে সাহায্য করে। এসি সিস্টেমও বেশ শক্তিশালী, গরমেও ভেতরের পরিবেশ ঠান্ডা রাখে। আমি নিজে পরিবারের সাথে একবার তিন ঘন্টার জার্নি করেছিলাম, আর বাচ্চারাও পেছনে বসে বেশ আরামেই ছিল, কোনো বিরক্তি ছাড়াই। ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেমটাও এতটাই ইউজার ফ্রেন্ডলি যে রাস্তার খবর বা পছন্দের গান শুনতে শুনতে সময়টা বেশ ভালো কাটে।
আধুনিক প্রযুক্তি আর বিনোদনের সমন্বয়

Maverick-এর ভেতরে আধুনিক প্রযুক্তির দারুণ ব্যবহার দেখা যায়। টাচস্ক্রিন ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম, অ্যাপল কারপ্লে এবং অ্যান্ড্রয়েড অটো সাপোর্ট – সব মিলিয়ে ড্রাইভিং অভিজ্ঞতাকে আরও আনন্দদায়ক করে তোলে। আমি আমার ফোন সহজেই কানেক্ট করে গুগল ম্যাপস ব্যবহার করি, যা শহরের অজানা রাস্তা খুঁজে বের করতে খুবই সাহায্য করে। আর পছন্দের পডকাস্ট বা গান শুনতে শুনতে শহরের যানজটও তেমন বিরক্তিকর লাগে না। ইউএসবি পোর্টগুলোও বেশ কয়েকটি থাকায় সবার ফোন চার্জ দেওয়ার সুযোগ থাকে, যা আজকালকার দিনে খুবই জরুরি। আমার মনে হয়, Ford শুধু গাড়িই বানায়নি, তারা ড্রাইভার এবং যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে একটি সম্পূর্ণ বিনোদন ও যোগাযোগ কেন্দ্র তৈরি করেছে।
খরচ কমানোর সেরা কৌশল: Ford Maverick কেন সেরা
কম রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, বেশি সঞ্চয়
একটা গাড়ি কেনার পর তার রক্ষণাবেক্ষণ খরচটাও একটা বড় ফ্যাক্টর। তেল ভরানো যেমন একটা খরচ, তেমনি সার্ভিসিং বা যন্ত্রাংশ বদলানোও পকেট খালি করে দেয়। Ford Maverick এই দিক থেকেও আমাকে মুগ্ধ করেছে। এর নির্মাণ এতটাই মজবুত আর ডিজাইন এতটাই স্মার্ট যে এর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ তুলনামূলকভাবে বেশ কম। আমি গত এক বছরে যে সার্ভিসিং করিয়েছি, তার খরচ অন্য গাড়ির চেয়ে অনেক কম ছিল। এর যন্ত্রাংশগুলোও বেশ সহজলভ্য এবং খুব একটা বেশি দামি নয়। এটা আমার মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য একটা বিশাল স্বস্তি। মনে হয় যেন একটা দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ করেছি, যা ভবিষ্যতে আমাকে আরও বেশি সুবিধা দেবে।
পুনর্বিক্রয় মূল্য এবং দীর্ঘস্থায়ী কার্যকারিতা
গাড়ি কেনার সময় আমরা অনেকেই ভাবি যে ভবিষ্যতে এর পুনর্বিক্রয় মূল্য কেমন হবে। Maverick-এর শক্তিশালী নির্মাণ এবং নির্ভরযোগ্যতা এর পুনর্বিক্রয় মূল্যকেও বেশ ভালো রাখে। বাজারে এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে, বিশেষ করে এর হাইব্রিড মডেলের। অর্থাৎ, যদি ভবিষ্যতে আপনি গাড়িটি বিক্রি করতে চান, তাহলে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এর দীর্ঘস্থায়ী কার্যকারিতা আমাকে আরও বেশি ভরসা যোগায়। মনে হয় যেন বহু বছর ধরে নিশ্চিন্তে এটি ব্যবহার করা যাবে, কোনো বড় ধরনের সমস্যা ছাড়াই। এটা শুধু একটি গাড়ি নয়, এটা যেন আমার পরিবারের একজন বিশ্বস্ত সদস্য হয়ে উঠেছে, যে সবসময় আমার পাশে থাকে।
শহরের সেরা সঙ্গী: কেন Maverick আমার প্রথম পছন্দ
আমার প্রতিদিনের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ
সত্যি বলতে কি, Ford Maverick আমার দৈনন্দিন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। অফিস থেকে বাজার, বাচ্চাদের স্কুল থেকে বন্ধুর বাড়ি – সব জায়গায় এটি আমার বিশ্বস্ত সঙ্গী। এর বহুমুখী ব্যবহার আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে। যখন পিকআপের দরকার হয়, তখন পেছনে জিনিসপত্র লোড করে ফেলি। আবার যখন পরিবার নিয়ে বের হই, তখন আরামদায়ক কেবিনটা দারুণ কাজ দেয়। আমি নিজে মাঝে মাঝে ছোটখাটো ফার্নিচার বা বাগান করার সরঞ্জাম আনা-নেওয়া করি, যা অন্য কোনো সেডান গাড়িতে সম্ভব হতো না। মনে হয় যেন একটা গাড়ি নয়, আমি একাধিক গাড়ির সুবিধা পাচ্ছি একসঙ্গেই।
শহুরে জীবনযাত্রার জন্য আদর্শ
শহরের ব্যস্ত জীবন, যেখানে সময় আর জায়গা দুটোই মূল্যবান, সেখানে Maverick সত্যিই একটি আদর্শ পছন্দ। এর ফুয়েল ইকোনমি, পার্কিং-এর সুবিধা, আরামদায়ক রাইড এবং মাল্টিফাংশনাল ক্ষমতা – সব মিলিয়ে এটি শহরের জন্য সেরা গাড়ি। আমি যখন রাস্তায় অন্য গাড়ির চালকদের দেখি ট্র্যাফিকের যন্ত্রণায় বা পার্কিং-এর সমস্যায় ভুগতে, তখন আমার Maverick-এর প্রতি ভালোবাসা আরও বেড়ে যায়। এটি আমাকে শুধু যাতায়াতেই সাহায্য করে না, এটি আমার জীবনযাত্রাকে আরও সহজ আর আনন্দময় করে তুলেছে। আমার মনে হয়, শহরের ব্যস্ত জীবনকে যারা একটু সহজ করতে চান, তাদের জন্য Ford Maverick একটি দারুণ সমাধান হতে পারে।
글을মাচি며
আজকের এই পোস্টে, আমি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে Ford Maverick সম্পর্কে আমার অনুভূতিগুলো আপনাদের সাথে ভাগ করে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। শহরের ব্যস্ত জীবনে একটি গাড়ি কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে, আর Maverick কিভাবে সেই ভূমিকাটি নিখুঁতভাবে পালন করছে, তা আমার মনে হয় আপনারা কিছুটা হলেও বুঝতে পেরেছেন। এই গাড়িটি শুধু একটি বাহন নয়, এটি আমার দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গী, যা আমার প্রতিটি যাত্রাকে সহজ ও আনন্দময় করে তোলে। আমার বিশ্বাস, যারা শহরের যানজট আর তেলের খরচ নিয়ে চিন্তিত, তাদের জন্য Maverick একটি দারুণ সমাধান হতে পারে। আমার এই লেখা যদি আপনাদের একটুও উপকারে আসে, তাহলে আমি নিজেকে ধন্য মনে করব।
알아두면 쓸모 있는 정보
১. শহরের যাতায়াতের জন্য Ford Maverick Hybrid মডেলটি জ্বালানি সাশ্রয়ে অনবদ্য, যা আপনার পকেট বাঁচাবে।
২. এর কম্প্যাক্ট আকার ও মসৃণ হ্যান্ডলিং শহরের ঘিঞ্জি রাস্তা ও পার্কিং-এর সমস্যা মেটাতে দারুণ সহায়ক।
৩. আরামদায়ক সিট এবং শক্তিশালী এসি সিস্টেম দীর্ঘ যাত্রাতেও ক্লান্তিহীন অভিজ্ঞতা দেয়।
৪. আধুনিক ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম এবং কানেক্টিভিটি ফিচার্সগুলো প্রতিটি যাত্রাকে আরও আনন্দময় করে তোলে।
৫. কম রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ও ভালো পুনর্বিক্রয় মূল্য এটিকে একটি লাভজনক বিনিয়োগে পরিণত করে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি
Ford Maverick শহরের জন্য একটি আদর্শ গাড়ি, যা চমৎকার জ্বালানি দক্ষতা, সহজে পার্কিং করার সুবিধা, আরামদায়ক অভ্যন্তরীণ পরিবেশ এবং আধুনিক প্রযুক্তির এক দারুণ সমন্বয়। আমি নিজে এর প্রতিটি সুবিধা উপভোগ করছি এবং শহরের জীবনযাত্রাকে এটি সত্যিই অনেক সহজ করে তুলেছে। শহরের ব্যস্ততা এবং আধুনিক চাহিদার কথা মাথায় রেখে তৈরি এই গাড়িটি যেকোনো শহুরে চালকের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য এবং বিচক্ষণ পছন্দ হতে পারে। এটি শুধু আপনাকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পৌঁছে দেয় না, বরং আপনার প্রতিটি যাত্রায় এক নতুন স্বস্তি ও আত্মবিশ্বাস যোগায়।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖
প্র: শহরের যানজটে Ford Maverick চালানো কতটা সহজ? এর আকার কি সমস্যা তৈরি করে?
উ: এখানে আমি আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, যখন আমি প্রথম Maverick নিয়ে শহরের ব্যস্ত রাস্তায় নামি, তখন একটু চিন্তায় ছিলাম এর আকার নিয়ে। কিন্তু বিশ্বাস করুন, অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই আমার ভুল ভেঙে যায়। Maverick-এর ডিজাইন এমনভাবে করা হয়েছে যে, শহরের সরু গলি বা পার্কিং স্পেসেও এটি বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে চলে যায়। এর টার্নিং রেডিয়াসটা এত ভালো যে, মনেই হয় না আপনি একটা পিকআপ ট্রাক চালাচ্ছেন!
শহরের মধ্যে ছোট ছোট ইউ-টার্ন বা ঘিঞ্জি জায়গায় গাড়ি ঘোরানো নিয়ে কোনো সমস্যাই হয় না। আমি তো প্রায়ই অফিস যাওয়ার পথে এমন সব শর্টকাট নিই, যেখানে অন্য বড় গাড়ি ঢোকা বেশ কঠিন। Maverick সেখানে একদম পানির মতো সহজ!
এছাড়াও, ড্রাইভিং পজিশনটা বেশ উঁচু হওয়ায় সামনের রাস্তা এবং চারপাশে ভালোই নজর রাখা যায়, যা শহরের ট্র্যাফিকের জন্য খুবই জরুরি।
প্র: শহরের ভেতরে Ford Maverick-এর মাইলেজ কেমন? বিশেষ করে হাইব্রিড মডেলটি কি সত্যিই এত সাশ্রয়ী?
উ: মাইলেজ নিয়ে তো সবারই চিন্তা থাকে, বিশেষ করে আমাদের মতো যারা প্রতিদিন শহরে গাড়ি চালাই। আমি নিজে যখন Maverick হাইব্রিড মডেলটি নিয়ে শহরের ট্র্যাফিকে চালাই, তখন এর ফুয়েল সাশ্রয়ী ক্ষমতা দেখে আমি সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি। এটি যে শুধু কথার কথা নয়, তা আমি হাতেনাতে ফল পেয়ে বুঝেছি। শহরের থেমে থেমে চলা ট্র্যাফিকে, যেখানে বারবার ব্রেক কষতে হয় আর আবার গতি বাড়াতে হয়, সেখানে হাইব্রিড সিস্টেমটা জাদু দেখায়। ইলেক্ট্রিক মোডে চলার কারণে অনেকটা সময় তেল খরচ ছাড়াই চলে, যা সরাসরি আপনার পকেটে প্রভাব ফেলে। আমার মনে হয়, যারা প্রতিদিন অফিস বা কাজের জন্য শহরে গাড়ি চালান, তাদের জন্য Maverick হাইব্রিড একটি অসাধারণ পছন্দ। আমি যখন প্রথমবার এক সপ্তাহের তেল খরচের হিসেব করি, তখন আমি নিজেই অবাক হয়েছিলাম যে কতটা কমে এসেছে!
সাধারণ পেট্রোল মডেলের চেয়ে হাইব্রিড মডেল নিঃসন্দেহে অনেক বেশি সাশ্রয়ী, বিশেষ করে শহরের ড্রাইভিং এর জন্য।
প্র: শহরের দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য Ford Maverick কি আরামদায়ক? পার্কিং বা অন্যান্য সুবিধা কেমন?
উ: শহরের দৈনন্দিন যাতায়াত মানেই তো অনেক সময় গাড়ির ভেতরে কাটানো। তাই আরামটা খুবই জরুরি। Maverick এই দিক থেকেও আমাকে নিরাশ করেনি। এর সিটগুলো বেশ আরামদায়ক, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলেও তেমন ক্লান্তি আসে না। কেবিনটাও বেশ নিরিবিলি, বাইরের হট্টগোল তেমন কানে আসে না, যা শহরের ড্রাইভিং-এর জন্য একটা বড় প্লাস পয়েন্ট। আর পার্কিং নিয়ে কথা বলতে গেলে, এর কম্প্যাক্ট সাইজটা সত্যিই একটা আশীর্বাদ। শহরের ব্যস্ত মার্কেট হোক বা ছোট অ্যাপার্টমেন্টের পার্কিং স্পেস, Maverick নিয়ে পার্ক করাটা মোটেও ঝামেলার মনে হয় না। আমি তো প্রায়ই এমন সব ছোট স্পেসে গাড়ি পার্ক করি যেখানে আমার বন্ধুর সেডান গাড়িটা ঢোকাও কঠিন। এছাড়াও, এর পিকআপ বেডটা প্রতিদিনের ছোটখাটো জিনিসপত্র বহন করার জন্য দারুণ কাজে লাগে। সাপ্তাহিক বাজার থেকে শুরু করে অফিসের ফাইল বা ছোটখাটো শপিং – সবকিছুই সহজে বহন করা যায়। সব মিলিয়ে, শহরের লাইফস্টাইলের জন্য Maverick সত্যিই একটি বহুমুখী এবং আরামদায়ক সঙ্গী।






